ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
ইসলাম ও অন্যান্য ধর্ম লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কুফরি ও মুনাফেকি

গ্রন্থনা: শাইখ আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইবরাহীম আল কার‘আওয়ী
অনুবাদ: ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
সম্পাদনা: ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
কুফরি দু’ প্রকার :
এক:
যা করলে ইসলাম থেকে বের হয়ে যায়।
নিম্নলিখিত পাঁচটি কারণে এ প্রকার কুফরি হয়ে থাকে:
১। মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে কুফরি : এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী: “আর তার চেয়ে কে বেশি অত্যাচারী যে আল্লাহর উপর মিথ্যার সম্বন্ধ আরোপ করেছে, অথবা তার কাছে হক (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বা আল্লাহ ছাড়া সঠিক কোন উপাস্য নেই এ কালেমা) আসার পর তা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, জাহান্নাম কি কাফেরদেরই বাসস্থান নয়?” [সূরা আল আনকাবুত: ৬৮]

২। সত্য জেনেও অহংকার ও অস্বীকার করার কারণে কুফরি : এর প্রমাণ আল্লাহ তা‘আলার বাণী : “আর স্মরণ করুন যখন আপনার প্রভু আদমকে সিজদা করার জন্য ফেরেশ্‌তাদেরকে নির্দেশ দিয়েছিলেন তখন ইবলিস ব্যতীত সবাই সিজদা করেছিল, সে অস্বীকার করেছিল, এবং অহংকার বোধে গর্ব করেছিল আর কাফেরদের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।” [সূরা আল বাকারা: ৩৪]

৩। সন্দেহ করার দ্বারা কুফরি করা- আর তা হলো অসার ধারণার বশবর্তী হয়ে কুফরি করা : এর প্রমাণ কোরআনের বাণী : “আর সে তার বাগানে প্রবেশ করল এমতাবস্থায় যে সে তার আত্মার উপর অত্যাচার করছে, এ-কথা বলে যে, আমি মনে করি না যে, এটা (বাগান) কখনো ধ্বংস হয়ে যাবে এবং কোনোদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে বলেও মনে করি না। আর যদি তা হয়েও যায় এবং আমাকে আমার প্রভুর কাছে ফিরে নেয়াও হয় তথাপি আমি তার কাছে ফিরে এর (বাগানের) চেয়ে আরও ভালো (বাগান) পেয়ে যাব। তার সাথী তাকে বলল: তুমি কি সেই স্বত্বার সাথে কুফরি করছ যিনি তোমাকে প্রথমে মাটি ও পরে বীর্য থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং এরপর পূর্ণ মানুষরূপে তোমাকে অবয়ব দান করেছেন? কিন্তু আমি (বলছি) সেই আল্লাহই আমার রব ও পালনকর্তা, তার সাথে কাউকে শরিক করি না।” [সূরা আল-কাহফ: ৩৫-৩৮]

৪। এড়িয়ে যাওয়ার (বিমুখ হওয়ার) কারণে কুফরি : এর প্রমাণ আল্লাহর বাণী : “আর যারা কুফরি করেছে তারা যে সমস্ত বস্তুর ভয় তাদেরকে দেখান হয়েছে সেগুলো থেকে বিমুখ হয়েছে (এড়িয়ে গেছে)।” [সূরা আল-আহকাফ: ৩]

৫। মুনাফেকি করার কারণে কুফরি : এর প্রমাণ আল্লাহর পবিত্র কালামে এসেছে : “এটা এ জন্য যে, তারা ঈমান এনেছে অতঃপর কুফরি করেছে; ফলে তাদের অন্তরের উপর সিল মেরে দেয়া হয়েছে সুতরাং তারা বুঝছে না, বুঝবেনা।” [সূরা আল মুনাফিকুন: ৩]

দুই : দ্বিতীয় প্রকার কুফরি
আর তা হলো ছোট কুফরি, যা করলে গুনাহ হলেও ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবেনা, আর তা’ হলো আল্লাহর নেয়ামত এর সাথে কুফরি করা।
এর প্রমাণ : কোরআনের বাণী : “আল্লাহ্ তা‘আলা উদাহরণ দিচ্ছেন কোন নিরাপদ, শান্ত-স্থির জনপদের— যার জীবিকা চতুর্দিক থেকে অনায়াসে আসছিল, তখন তারা আল্লাহর নেয়ামতের সাথে কুফরি করলো, ফলে আল্লাহ তা‘আলা সে জনপদকে তাদের কার্যাদির শাস্তি স্বরূপ ক্ষুধা ও ভয়ে নিপতিত রাখল”। [সূরা আন্-নাহ্‌ল: ১১২]
মুনাফেকির প্রকারভেদ
মুনাফেকি দু প্রকার :
১। বিশ্বাসগত মুনাফেকি।
২। আমলগত (কার্যগত) মুনাফেকি।

এক : বিশ্বাসগত মুনাফেকি
এ-প্রকার মুনাফেকি ছয় প্রকার, এর যে কোন একটা কারো মধ্যে পাওয়া গেলে সে জাহান্নামের সর্বশেষ স্তরে নিক্ষিপ্ত হবে।
১। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
২। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার সামান্যতম অংশকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা।
৩। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে ঘৃণা বা অপছন্দ করা।
৪। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা নিয়ে এসেছেন তার সামান্যতম অংশকে ঘৃণা বা অপছন্দ করা।
৫। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দীনের অবনতিতে খুশী হওয়া।
৬। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দীনের জয়ে অসন্তুষ্ট হওয়া।

দুই : কার্যগত মুনাফেকি
এ ধরণের মুনাফেকি পাঁচ ভাবে হয়ে থাকে: এর প্রমাণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর বাণী:
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “মুনাফিকের নিদর্শন হলো তিনটি:
১। কথা বললে মিথ্যা বলা।
২। ওয়াদা করলে ভঙ্গ করা।
৩। আমানত রাখলে খিয়ানত করা।[1]
অপর বর্ণনায় এসেছে :
৪। ঝগড়া করলে অকথ্য গালি দেয়া।
৫। চুক্তিতে উপনীত হলে তার বিপরীত কাজ করা।”[2]

[1] বুখারি (১/৮৩); মুসলিম (১/৭৮), হাদীস নং ৫৯।
[2] বুখারি (১/৮৪); মুসলিম (১/৭৮), হাদীস নং ৫৮।

যীশু কি সত্যিই ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন? পর্ব-১

আলোচ্য বিষয়ঃ
১।খ্রিষ্টধর্মে ক্রুশের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
২।যিশু কি সত্যিই ক্রুশবিদ্ধ হয়েছিলেন?
৩। খ্রিষ্ট ধুর্মে ক্রুশের প্রমাণ।
৪।যিশু খ্রিষ্টের ক্রুশবিদ্ধ না হওয়ার প্রমাণ।

_____________________________________
১।খ্রিষ্টধর্মে ক্রুশের গুরুত্ব ও তাৎপর্য
প্যাস্টর রুকনুদ্দিনঃ
প্রথমেই বলতে চাই যে,আমার নাম হল রুকনি।আর এটা হল ‘রুকনুদ্দিন’ নামের অপভ্রংশ।আমি সাধারণত রুকনুদ্দিন শব্দটা ব্যবহার করিনা। অফিশিয়াল কাগজ পত্রেও আমার নাম রুকনি।আমাকে এ নামেই ডাকবেন।যাহোক,আজকের অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলা যেত,কিন্তু এটা সম্ভব হবে না। তাই একটি নির্দিষ্ট বিশয় নির্বাচন করেছি।কারণ এভাবে আমরা নিজেদের মধ্যে পর্যালোচনা চালিয়ে গেলে একে অন্যকে সহজে বুঝতে পারব।এ বিষয়টা নির্বাচনের কারন সম্পর্কে আপনারা জিজ্ঞেস করতে পারেন।আমি তিনটি বিষয় সম্পর্কে বলেছিলাম।উনারা তন্মধ্যে এ বিষয়টিকে নির্বাচন করেছেন। আপনারা হয়তো জানেন যে,এ বিষয়টা খ্রিষ্টধর্ম বিশ্বাসের খুবই মৌলিক একটি বিষয়।এ বিষয়টি নিয়ে খ্রিষ্টান ও মুসলমানদের মধ্যে অনেক মতপার্থক্য আছে।মতপার্থক্য থাকলেও ড জাকির নায়েকের আহবান অনুযায়ী আমি খোলাখুলি কথা বলতে চাই।তবে অবশ্যই একে অন্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন পূর্বক কথা বলব।তাই এখন আমি ক্রস সম্পর্কে খ্রিষ্টধর্মের বিশ্বাস ও দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপন করব।
আপনারা আপনাদের পছন্দমত যেটা খুশি গ্রহণ করতে পারবেন এবং যেটা খুশী বর্জন করবেন।..তবে আমরা একে অন্যের দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান দেখাবো।যদি আমার সাথে একমত নাও হন,সেক্ষেত্রে আপনাকে সম্মান দেখাবো।আর আপনার এ মতামতের প্রতিও আমি সম্মান দেখাবো।এ আলোচনার মধ্যে পবিত্র বাইবেলের কিছু উদ্ধৃতি দিব,কিন্তু সেই উদ্ধৃতিগুলোর কোন reference দিব না।পবিত্র বাইবেল থেকে আমি প্রসঙ্গক্রমে যে সব উদ্ধৃতি দিব-তা শুধু আলোচনার স্বার্থে।মনে রাখবেন,এখানে আমার উদ্দেশ্য আপনাদের বাইবেল মুখস্থ করানো নয়;বরং আমার এখানে আসার উদ্দেশ্য হচ্ছে আপনারা যাতে আমার কথার অর্থ উপলব্ধি করতে পারেন।খ্রিষ্ট ধর্মে ক্রসের গুরুত্ব বুঝতে পারেন এবং
খ্রিষ্টধর্মে ক্রসকে কেন এত গুরুত্ব দেয়া হয়?
এর কারণটা কি?
কেন এই বিষয়টা এত গুরুত্বপুর্ণ?
প্রথমে আমি ক্রস সম্পর্কে কয়েকটি কথা বলতে চাই।ক্রসের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে অনেকেই মনে করেন যে, ক্রস একটি ফ্যাশন।যেমন আমি গেলাম জাবলি বাজারে।তারপর বিভিন্ন দোকানে ক্রস খুঁজতে লাগলাম।অতঃপর ……………
__________________________________
সঙ্গত কারনে আমি প্যাস্টর রুকনুদ্দিনের বক্তব্য লিখা এখানেই শেষ করছি।কারন জাকির নাইকের বক্তব্যে তার প্রতিটি যুক্তির খন্ডন করা হয়েছে।আপনারা সেখান থেকেই রুকনুদ্দিনের পুর্ণ বক্তব্য সম্পর্কে জানতে পারবেন,ইনশাআল্লাহ।
__________________________________

ডক্টর যাকির নাইকঃ
“সমস্ত প্রসংসা মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্য।দরুদ ও সালাম পেশ করছি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম,তাঁর পরিবারবর্গ ও সাহাবীদের উপর।অতঃপর বিতাড়িত তথা অভিশপ্ত শয়তানের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
মহান আল্লাহর নামে শুরু করছি যিনি পরম দয়ালু ও দয়াবান।আল্লাহ বলেছেন,
“আর তাদের বক্তব্য হচ্ছে যে, “নিশ্চয়ই আমরা ঈসা ইবনে মারিয়ামকে হত্যা করেছি যিনি আল্লাহর একজন রাসুল ছিলেন।”কিন্তু তারা তাকে হত্যা করতে পারেনি;বরং তাদের এরূপ বিভ্রম হয়েছিল।আর যাঁরা তার সম্পর্কে মতভেদ করেছিল তারা দ্বিধাদ্বন্দে ছিল।কারণ তাদের কোন জ্ঞান ছিল না।তারা শুধু অনুমানকেই অনুসরণ করেছে।এটা নিশ্চিত যে তারা তাকে নিশ্চিতভাবেই হত্যা করেনি।”
“হে আমার প্রভু!আমার বক্ষকে উন্মুক্ত করে দিন।আমার বিষয়টাকে সহজ করে দিন।আমার জিহবার জড়তা কাটিয়ে দিন।আমার কথার মর্ম যেন তারা উপলব্ধি করে।”
শ্রদ্ধেয় প্যাস্টর রুকনুদ্দিন অথবা তিনি যেভাবে পছন্দ করেন প্যাস্টর রুকনি,হেনরি পিও,প্যাস্টর সাজি, এছাড়াও বোম্বের বিভিন্ন চার্চের প্যাস্টর ভাইয়েরা,শ্রদ্ধেয় গুরুজন এবং প্রিয় ভাই ও বোনেরা আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাই ইসলামিক সম্ভাষণে-
“আসসালামুয়ালাইকুম ওয়া রাহ্মাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু”
(আল্লাহর দয়া।শান্তি এবং রহমত আপনাদের সবার উপর বর্ষিত হোক।)
আজকের আলোচনা শুরু করার আগে আমি পরিষ্কার করতে চাই যে, ধর্মে যিশুখ্রিষ্টকে আমরা মুসলমানরা কিভাবে দেখি?
ইসলাম হল একমাত্র অখ্রিষ্টান ধর্ম,যে ধর্মে যীশু খ্রিষ্টকে নবী বলে বিশ্বাস করা হয়।সে আসলে মুসলিম না যে যীশু খ্রিষ্টকে নবী বলে স্বীকার করে না।আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি আল্লাহর খুব গুরুত্বপুর্ন নবীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি একজন গুরুত্বপুর্ন রাসুলও।আমরা বিশ্বাস করি যে তিনি একজন মাসেহ অর্থাৎ খ্রিষ্ট।এটাও আমরা মানি যে,তিনি অলৌকিক ভাবে জন্মগ্রহন করেছিলেন।কোন পুরুষের ঔরসজাত না হয়েই তিনি জন্মগ্রহণ করেছিলেন।যেটা অনেক আধুনিক খ্রিষ্টানরাও বিশ্বাস করে না।আমরা এটাও মানি যে তিনি আল্লাহর আদেশে মৃতকে জীবিত করেছেন।তিনি আল্লাহ তা’আলার আদেশে কুষ্ঠ রোগীকে সুস্থ করেছেন।
এখন প্রশ্ন করতে পারেন যে, যদি মুসলিম ও খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারীরা দু’দলই যীশুকে ভালবাসেন এবং শ্রদ্ধা করেন তাহলে আপনাদের মধ্যে পার্থক্যটা কোথায়?
হ্যাঁ। পার্থক্য আছে।পার্থক্যটা হল খ্রিষ্টান ধর্মের অনুসারীরা যীশু খ্রীষ্টকে মনে করে যে, তিনিই হলেন ঈশ্বর।আর তারা বলে যে,যীশু ক্রুশ বিদ্ধ হয়েছিলেন।আর তিনি মানুষের পাপের জন্য মারা গিয়েছেন।আজকের আলোচনার বিষয় বস্তু মনে হয় আপনাদের মনে আছে,(যীশু কি সত্যি ক্রুশ বিদ্ধ হয়েছিলেন?)
যেহেতু আমরা মুসলিম আর খীষ্টান উভয় পক্ষই যীশু খ্রীষ্টকে মানি,তাই আমি উভয়ের দৃষ্টিভঙ্গিটা বলতে চাই,মুসলিম আর খ্রীষ্টানরা এ বিষয়টাকে কিভাবে মূলয়ায়ন করে।
মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গির কথা যদি বলতে হয়,তাহলে শুরুতেই যা বলতে হবে, তা হচ্ছে মুসলমানদের নিকট সবচেয়ে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হল আসমানি কিতাব পবিত্র কুরান।আজকের বকতৃতার শুরুতেই আমি মহা পবিত্র কুরানের একটি আয়াত তিলাওয়াত করেছিলাম।পবিত্র কুরানের সুরা নিসার ১৫৭ আয়াত এটি।সেখানে পরিস্কার করে বলা হয়েছে আজকের বিতর্কের বিষয়বস্তুটা সম্পর্কে।আপনারা জানেন যে, আমাদের আজকের আলোচক প্যাস্টর রুকনি একজন আরব খ্রীষ্টান মিশনারী।উনার মাত্রৃভাষা আরবি।সে জন্য আমার উদ্ধৃত আয়াতটির অনুবাদ উনাকে বলার কোন প্রয়োজন নেই।এ আয়াতের মাধ্যমেই তিনি যীশু খীষ্টের খুশ বিদ্ধ হওয়ার ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিটা আশা করি বুঝতে পেরেছেন।তবে এখানে উপস্থিত বেশিরভাগ মানুষই আরবি ভাষা বোঝেননা।কারন আরবি আমাদের মাতৃভাষা নয়।এখন আমি তাদের জন্য সুরা নিসার ১৫৭ নম্বর আয়াতটির অনুবাদ পেশ করছি।যেমনঃ
“আর তারা (ইহুদিরা দম্ভ করে) বলেছে,”আম্বিয়া মরিয়মের পুত্র ঈসা যিনি একজন আল্লাহর রাসুল ছিলেন তাকে হত্যা করেছি।আর তারা তাকে হত্যাও করেনি এবং ক্রুশ বিদ্ধও করেনি।বরং তাদের এরুপ বিভ্রম হয়েছিল।আর যারা তাঁর সম্পর্কে মতভেদ করেছিল তারা দ্বিধা দ্বন্দ্বে ছিল এবং তাদের কোন জ্ঞান ছিলো না।শুধু অনুমানকেই অনুসরণ করেছে।এটা নিশ্চিত যে,তারা তাকে হত্যা করেনি। “
পবিত্র কুরানের এ আয়াতটা স্পষ্ট করে বলেছে যে, যীশু খ্রীষ্টকে হত্যা করা হয়নি।সুতরাং আজকের আলোচনার বিষয় বস্তু সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টী ভঙ্গি হচ্ছে,
“তারা তাকে হত্যাও করেনি এবং ক্রুশ বিদ্ধও করেনি।”
“এটা নিশ্চিত যে,তারা তাকে হত্যা করেনি। ”

এখানে পবিত্র কুরানের বক্তব্য খুবই স্পষ্ট ও পরিস্কার।সুরা নিসার এ আয়াত পরিস্কার করেই বলেছে যে, তাকে হত্যা করা হয় নি।আমি যদি এখানেই আমার বক্তব্য শেষ করি এবং আমাদের প্যাস্টর যা যা বলেছেন তার উত্তরে যদি দু’ চার কথা না বলি বা তার যুক্তি যদি খন্ডন না করি তাহলে আজকের বিতর্ক অনুষ্ঠান ড্র হয়ে যাবে।
অর্থাৎ,আলোচনার ফলাফল অমিমাংসিত থেকে যাবে।মুসলিমরা বিশ্বাস করে পবিত্র কুরানের বক্তব্য অনুযায়ী যীশু খ্রীষ্টকে আসলে কখনই ক্রুশবিদ্ধ করা হয় নি।
এর পর আমি বলতে চাই যে,আমরা মুসলমানরা বিশ্বাস করি,খ্রীষ্টানদের বাইবেল ঈশ্বরের বাণী নয়।বড়জোর এতটুকু বিশ্বাস করতে পারি যে, বাইবেলে এমন কিছু কথা থাকতে পারে যেটুকুকে আমরা ঈশ্বরের বাণী হিসেবে ধরে নিতে পারি।তাছাড়া আপনারা যখন বাইবেল পড়বেন তখন লক্ষ্য করবেন যে, উহাতে অবাস্তব গল্প,অশ্লীল কথাবার্তা বিদ্যমান আছে।কোনটির ভাষা এতই নংরা যে, কেউ যদি আমাকে হাজার টাকাও দেয় তবুও আমি সেসব কথা মুখে উচ্চারণ করতে পারবনা।বাইবেলে এ ধরনের অশ্লীল কথা আছে।এছাড়া বাইবেলে পরস্পর বিরোধী কথা বার্তা রয়েছে।যদিও আমি বিশ্বাস করিনা যে,বাইবেল ঈশ্বরের বাণী।তার পরও আমি বাইবেল দিয়েই প্রমান করতে চাই যে, যীশু খ্রীষ্ট আসলে কখনই ক্রুশবিদ্ধ হন নি।কারন প্যাস্টর রুকনি আর এখানে উপস্থিত খ্রীষ্টানরা মনে করেন এবং বিশ্বাস করেন যে, বাইবেল ঈশ্বরের বানী।সুতরাং আমি,তাদের ধর্ম গ্রন্থ দিয়েই প্রমাণ করব যে,যীশু খ্রীষ্ট কখনই ক্রুশবিদ্ধ হননি।এছাড়া পবিত্র কুরানের সুরা বাকারার ১১১ নম্বর আয়াতে উল্লেখ কথা হয়েছে যে,
“আর তারা(ইহুদি ও খ্রীষ্টানরা) বলে যে, ইহুদি ও খ্রিষ্টান ব্যতীত কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেনা।”

ইতোপুর্বে প্যাস্টরও বললেন, যত ভাল কাজই করেন আপনি পাপ মুক্ত হতে পারবেননা।কোন কাজ হবে না।যতই যাকাত দেন,হজ্জ করেন,নামায পড়েন আর যতই কপালে দাগ পড়ুক,জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবেননা।যদি আপনি ইহুদি বা খ্ররেইষ্টান না হন।তবে এ আয়াতের শেষে আল্লাহ এটাও বলেছেন,
“এটা তাদের মিথ্যা আশা।আপনি তাদের বলুন! তোমরা প্রমাণ পেশ কর,যদি তোমরা সত্যবাদী হও।”
আল্লাহ মুসলমানদের নির্দেশ দিয়েছেন যে, তোমরা তাদেরকে প্রমাণ পেশ করতে বল। যদি আমি করান থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে বলি যে, করান আল্লাহর বাণী সে জন্য একই ভাবে তাদেরকেও বলব যে-
তোমাদের প্রমাণ দেখাও,যদি সত্যবাদী হয়ে থাক।এখানে খ্রীষ্টানরা প্রমাণ হিসেবে দেয় এ বাইবেলকে।এটা তাদের বুরহান বা সুস্পষ্ট দলীল।খীষ্টানরা এমনও বলে যে, আমার বাইবেল এটা বলেছে,আমার বাইবেল ওটা বলেছে।বাইবেল উমুক কথা আছে,তমুক কথা আছে। আসুন তাহলে এবার দেখি বাইবেলে আসলে কি বলা হয়েছে?
আপনারা হয়ত জানেন যে, পবিত্র বাইবেল পৃথিবীর ২০০০ হাজারেরো বেশি ভাষায় অনুবাদ করা হয়েছে।তাহলে এবার আসুন দেখি, বাইবেলের বক্তব্য অনুসারেই যীশু খ্রীষ্টকে ক্রুশবিদ্ধ করা হয়েছে কিনা?আর এ বাইবেল থেকে আমি যে উপসংহারেই আসি না কেন ইসলামী দৃষ্টিভংগী যে তেমনি হবে এমনটা ভাবা কিন্তু ঠিক হবে না।
আমি আবারো স্মরণ করিয়ে দিতে চাই যে, বাইবেলের উপসংহার আর ইসলামী দৃষ্টিভংগী এক নাও হতে পারে।
_______________________________________________________________
ইসলামী দৃষ্টিভংগীটা য়ামি পরিস্কার করে বলেছি যে,পবিত্র কুরানের সুরা নিসার ১৫৭ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
“তারা তাকে হত্যা করেনি এবং তাকে ক্রুশবিদ্ধও করেনি”
এটা অত্যন্ত পরিস্কার ঘোষণা।এখন আজকের আমাদের আলোচনার বিষয় “Was Christ Really Crucified?”
এখন এ ইংরেজী শব্দ Crucify এর অর্থ কি?
Oxford Dictionary অনুযায়ী “Crucify” কাউকে মৃত্যু দন্ড দেয়া একটা ক্রসের সাথে তাকে বেঁধে রেখে। আর Webster Dictionary অনুযায়ী “Crucify” অর্থ কাউকে ক্রসের সাথে পেরেক ঠুকে অথবা বেঁধে মৃত্য দন্ড দেয়া।এক কথায়, কাউকে যদি ক্রুসিফাই করা হয় তাহলে সে ক্রসেই মারা যাবে। যদি সে ক্রুশে মারা না যায় তাহলে সে ক্রুসিফাইও হয়নি বলে ধরে নিতে হবে।
এখন Resurrection (পুনরুত্থান) শব্দটার অর্থ কি?
Oxford Dictionary অনুযায়ী এর অর্থ কোন কাজ বা ঘটনা যেখানে মৃত লোক জীবিত হয়।বড় হাতের R দিয়ে লিখা Resurrection শব্দের অর্থ খ্রীষ্ট মৃত থেকে জীবিত হয়েছেন।আর Webster Dictionary অনুযায়ী Resurrection অর্থ যে ঘটনায় মৃত মানুষ জীবিত হয়।কিন্তু বড় হাতের R দিয়ে লিখা Resurrection শব্দের অর্থ যীশু খ্রীষ্টের মৃত্যু আর সমাধির পরে তার পুনরায় জীবিত হওয়ার ঘটনা।
এক কথায়, যীশুর পুনরুত্থান হয়ে গেলে তাকে মারা যেতে হবে।যদি মারা না যান তিনি পুনরুত্থিত হবেননা।
আশাকরি আপনারা এই সংজ্ঞাগুলো ভালোভাবেই বুঝতে পেরেছেন।

চলবে ইনশাআল্লাহ।

শুক্রবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭

কুরআন মাজিদে সন্দেহের একটি ছায়া খুঁজে দেখাও


এই সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। মুত্তাকিদের (যারা
আল্লাহর প্রতি তাদের করণীয়সমূহ সম্পর্কে সচেতন তাদের) জন্য
হেদায়াত। (বাকারা, ০২ : ০২)

আর আমি আমার বান্দার ওপর (কুরআন মাজিদে) বিভিন্ন সময়ে
যা নাজিল করেছি যদি তোমরা সে সম্পকের্ সন্দেহে থাক তবে
তোমরা তার মত একটি ‘সুরা’ নিয়ে আস এবং আল্লাহ ছাড়া
তোমাদের সাক্ষীসমূহকে ডাক; যদি তোমরা (তোমাদের সন্দেহের
ক্ষেত্রে) সত্যবাদী হও। (বাকারা, ০২ : ২৩)

এই কুরআন তো এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ তা রচনা
করতে পারবে; বরং এটি যা (যে ওহি) তার সামনে, তার সত্যায়ন
এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যাতে কোনো সন্দেহ নেই, যা
সৃষ্টিকুলেন রবের পক্ষ থেকে। (ইউনুস, ১০ : ৩৭)

এ কিতাব সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। এতে কোনো
সন্দেহ নাই। (সাজদাহ, ৩২ : ০২)
লক্ষণীয় বিষয় হল, এই আয়াতগুলি কাফিরদেরকে কুরআন মাজিদের ভুলত্রুটি,
অসঙ্গতি কিংবা অনৈক্য খুঁজে বের করতে বলে না, বরং কুরআন
মাজিদে একটি সাধারণ সন্দেহের ছায়া খুঁজে বের করতে বলে। মানব
ইতিহাসে এমন কোনো বইয়ের নজির নেই যার লেখক এই দাবি করতে
পেরেছেন। কুরআন মাজিদই একমাত্র গ্রন্থ যা এই দাবি করেছে।
এখন আমরা সেসব বিবিধ সন্দেহের বিশ্লেষণ করি যা কোনো বই সম্পর্কে
একজন মানুষের হতে পারে। তা এমন একজন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত, রচিত
বা প্রচারিত হতে পারে, যিনি মানব সমাজে অপরিচিত কিংবা তা এমন
একজন ব্যক্তির দ্বারা লিখিত, রচিত বা প্রচারিত হতে পারে, যার চরিত্র,
আচরণ কিংবা ন্যায়পরায়নতা সন্দেহপূর্ণ। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া
সাল্লাম-এর জীবন ইতিহাসের এক অনস্বীকার্য বাস্তবতা যে, তাঁর জীবনের
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অংশ পর্যন্ত সংরক্ষিত, লিখিত এবং বিশ্বস্ততার সঙ্গে এক প্রজন্ম
থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয়ে এসেছে। বস্তুত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু
আলাইহি ওয়া সাল্লাম-ই মানব ইতিহাসের একমাত্র ব্যক্তি যার জীবন বৃত্তান্ত
বিগত চৌদ্দশ বছরের প্রত্যেক যুগের মুসলমানরাই লিপিবদ্ধ করেছে।
অধিকন্তু এ সকল বিবরণ এতই ব্যাপক যে, তারা কেবল তার জীবন-বৃত্তান্ত
লিখেই ক্ষান্ত হয় নি, বরং তাঁর ব্যক্তিগত আচরণ, সামাজিক সম্পর্ক,
আদান-প্রদান, কথা বলার ধরণ, হাঁটা-চলা, নিদ্রা যাওয়া, প্রাকৃতিক ডাকে
সাড়া দেওয়া, পোশাক-পরিচ্ছদ এবং তাঁর দেহাবয়বের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র বিষয়ের
ওপরও আলোকপাত করেছে। যেমন- তাঁর দাড়িতে শুভ্র চুলের পরিমাণ
কত ইত্যাদি। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর চরিত্র-বৈশিষ্ট্য,
আচার-আচরণ ও ন্যায়পরায়নতা সম্পর্কে এতটুকু বলাই যথেষ্ট যে, মক্কায়
তাঁর ঘোর শত্রুরাও তাঁকে ‘সিদ্দিক’ (সত্যবাদী) এবং ‘আল-আমিন’
(বিশ্বাসী) উপাধিতে ভূষিত করে। মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-
এর জীবন-ইতিহাস, চারিত্রিক ন্যায়পরায়নতা ও আচার-আচরণ সম্পর্কিত
বাস্তব ঘটনাবলি এমন নির্ভুলভাবে সংরক্ষণের পর সেই ব্যক্তি সম্পর্কে
কোনো সংশয় থাকতে পারে না যিনি মানব জাতির কাছে কুরআনের বাণী
প্রচার করেছেন। তিনি ইতিহাসের এক বিস্ময়কর ব্যক্তিত্বই নন, বরং
একজন প্রখ্যাত ও স্বতঃসিদ্ধ সত্যের প্রচারক।
অতএব এ থেকে বুঝা যায়, কুরআন মাজিদের উৎসের ক্ষেত্রে কোনো
ধরণের সন্দেহের অবকাশ নেই।
দ্বিতীয় প্রকার সন্দেহ, যা একটি গ্রন্থে সৃষ্টি হতে পারে তা, তার অন্তর্নিহিত
সঙ্গতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। যদি একটি গ্রন্থের কিছু বর্ণনা অন্য বর্ণনার সঙ্গে
অসামঞ্জস্যপূর্ণ হয় তবে তা একটি গ্রন্থের অন্তর্নিহিত সঙ্গতি কিংবা
সামঞ্জস্যের ক্ষেত্রে সন্দেহের সৃষ্টি করতে পারে। পুরো কুরআন মাজিদে
৬,২৩৬টি আয়াত এবং ৮৬,৪৩২টি শব্দ রয়েছে।
তথাপি কুরআন মাজিদের একটি সাধারণ আয়াত, প্রবাদ-প্রবচন, বাগধারা
কিংবা শব্দ অন্য অংশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়। পক্ষান্তরে প্রত্যেকটি আয়াত
ও শব্দ সমগ্র কুরআন মাজিদের টেক্সটের সঙ্গে পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাঠক
এই বিষয়টি সহজে বুঝতে পারবেন, যদি বর্তমান বাইবেল সম্পর্কে কেবল
দু’টি উদ্ধৃতি দেয়া হয়। প্রটেস্টেন্ট খ্রিস্টানদের বাইবেলের কপিতে বই
সংখ্যা ৬৬টি, যার মধ্যে ৩৯টি বই পুরাতন সমাচার থেকে এবং ২৭টি বই
নতুন সমাচার থেকে। অপরপক্ষে ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের বাইবেলের
কপিতে বই সংখ্যা ৭৩টি; ৬৬টি বই প্রটেস্টেন্ট খ্রিস্টানদের কপি থেকে
এবং ৬টি অতিরিক্ত বই যেগুলি Apocrypha (অ্যাপোক্রাইফা) নামে
পরিচিত।
বাইবেলের এই দুই ধরনের ভার্সনের অস্তিত্ব থাকার কারণে পুরো
বাইবেলের বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর সুস্পষ্ট সন্দেহের সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন জাগে
গ্রন্থটির কোন ভার্সনটি গ্রহণ করা যাবে, প্রটেস্টেন্ট ভার্সন না ক্যাথলিক
ভার্সন?
 
বাইবেলের একটি বিস্ময়কর অসঙ্গতি হল, এটি যীশু খ্রিস্টের (ঈসা
আলাইহিস সালাম-এর) দু’টি ভিন্ন ভিন্ন বংশ তালিকা প্রদান করে। বাইবেল
অনুসারে, তার একজন পূর্বপুরুষের নাম হল যোসেফ। মেথিউ ১ : ১-৭
অনুসারে যোসেফের পিতার নাম জ্যাকব। পক্ষান্তরে লূক ৩ : ২৩ অনুসারে
যোসেফের পিতার নাম হেলি।
আল হামদুলিল্লাহ। কুরআন মাজিদের কেবল একটি ভার্সনই সদা বিদ্যমান
থেকেছে এবং এর টেক্সটও সবধরনের অসঙ্গতিরহিত। সেহেতু সন্দেহের
দ্বিতীয় রূপ অর্থাৎ গ্রন্থের আভ্যন্তরীণ সঙ্গতি ও সামঞ্জস্য অনুসারেও কুরআন
মাজিদে কোনো ধরনের সন্দেহ নেই।
একটি গ্রন্থে তৃতীয় প্রকার যে সন্দেহের সৃষ্টি হয় তা তার বাহ্যিক সঙ্গতির
সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। তার অর্থ, গ্রন্থটিতে এমন কোনো বর্ণনা থাকবে না, যা
গ্রন্থটির বাইরের জগতের স্বতঃসিদ্ধ ও প্রতিষ্ঠিত জ্ঞানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক
হবে। বিগত পৃষ্ঠাগুলি তার কিছু নমুনা প্রদান করে যে, কুরআন মাজিদের
বর্ণনা শরীরবিদ্যা, জ্যোতির্বিদ্যা, উদ্ভিদবিদ্যা, ভ্রূণবিদ্যা, পদার্থবিদ্যা,
ব্যবচ্ছেদবিদ্যা, প্রাণীবিদ্যা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়সহ কোনো মানবজ্ঞান
জগতের সঙ্গেই অসঙ্গতি রাখে না। অধিকন্তু কুরআন মজিদ মানব জ্ঞানের
সকল স্তর থেকে শ্রেষ্ঠত্বের মর্যাদা রাখে, চাই তা প্রাচীন, সাম্প্রতিক কিংবা
অতি সাম্প্রতিকই হোক না কেন।
এভাবে কুরআন মজিদ বাহ্যিক সঙ্গতির পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ।
কোনো মানুষই এমন কোনো গ্রন্থ রচনা করতে পারে নি যা চিরকাল বাহ্যিক
সঙ্গতির বিষয়টি রক্ষা করতে পেরেছে। প্রত্যেক বই-ই সময়ের সঙ্গে একটি
ধাপ পেরিয়ে গেলে সেকেলে এবং মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে। কুরআন
মাজিদই একমাত্র গ্রন্থ যা সফলতার সঙ্গে বিগত চৌদ্দশ বছর যাবৎ বাহ্যিক
সঙ্গতির চ্যালেঞ্জ মুকাবেলা করেছে। মহাজ্ঞানী ও সর্বজ্ঞাতা আল্লাহ
তাআলাই এমন একটি গ্রন্থ অবতীর্ণ করতে পারেন, যা এমন সর্বব্যাপী জ্ঞান
ধারণ করে যা সকল যুগের মানুষের জ্ঞানকে পরিব্যাপ্ত করে এবং সকল
জ্ঞান জগতের ওপর নিরংকুশ শ্রেষ্ঠত্ব রাখে।
মূলঃআল কুরআনের ১৬০ মুজিজা ও রহস্য[পৃষ্ঠাঃ ১৯৬-১৯৯]
ড. মাজহার কাজি
ভাষান্তর
মুহাম্মদ ফয়জুল্লাহ মুজহিরী
সম্পাদনা
এম মুসলেহ উদ্দিন
মুহাম্মদ শামসুল হক সিদ্দিক
অন্যথা পাবলিকেশন